যেসব আমলে দ্রুত বিয়ের ব্যবস্থা হয়

আমল, ইসলাম

ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম | 2025-02-26 16:36:31

বিয়ে মানবজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চারিত্রিক পবিত্রতা ও নিজ বংশধারা বজায় রাখার জন্য বিয়ের বিকল্প নেই। বিয়ে নবী-রাসুলদের সুন্নত।

কিন্তু আমাদের সমাজের একটি বড় বিচ্যুতি হলো, ক্যারিয়ার গঠনের জন্য যথাসময়ে বিয়ে না করা। পরবর্তীতে পাত্র-পাত্রীর বয়স বেড়ে যায় এবং বিবাহ কঠিন হয়ে যায়। নিজেদের এই বিচ্যুতি থেকে জন্ম নেয় জাদু-টোনা নির্ভর নানা ধরণের অন্ধবিশ্বাস।

মনে রাখতে হবে, জাদু মানব জীবনের ভালো-মন্দের আসল কার্যকারণ নয়, বরং জীবনে সেটাই ঘটে যা আল্লাহতায়ালা ভাগ্যে নির্ধারণ করে রেখেছেন। সুতরাং দ্রুত সময়ে বিয়ে না হলে কেউ বিয়ে বন্ধ করে রেখেছে, এই অমূলক ধারণা যদি থাকে তাহলে প্রথমে তা পরিহার করুন।

দুরাবস্থা, দুর্ভাগ্যের নাগাল ও মন্দভাগ্য থেকে মুক্তির জন্য বেশি বেশি করে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ভাগ্য পরিবর্তন হয় না দোয়া ব্যতীত। -জামে তিরমিজি: ২১৩৯

এখানে ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য কিছু আমলের কথা উল্লেখ করা হলো, ইনশাআল্লাহ এর উসিলায় এই দুরাবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে।

এছাড়া সহজে বিয়ে হওয়ার জন্য বেশি বেশি সালাতুল হাজত পড়ে দোয়া করা। বিশেষ করে কোরআন মাজিদে বর্ণিত একটি দোয়া পড়া উত্তম। তা হলো-

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

উচ্চারণ: রাব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাতা আইয়ুনি, ওয়া জাআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।

অর্থ: ‘হে আমাদের রব, আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করুন, যারা আমাদের চোখ শীতলকারী হবে এবং আমাদেরকে আল্লাহভীরুদের জন্য আদর্শ করুন।’ -সুরা ফুরকান: ৭৪

এ ছাড়া হাদিসে বর্ণিত বিশেষ দোয়া ও আল্লাহর গুণবাচক নামগুলোর আমলও করা যেতে পারে। যেমন-

اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُبِكَ مِنْ جَهْدِالْبَلَاءِ وَدَرْكِ الشَّقَاءِ وَسُوْءِ الْقَضَاءِ و شَمَاتَةِ الْاَعْدَاءِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন জাহদিল বালায়ি, ওয়া দারকিশ শাকায়ি, ওয়া সুয়িল কাজায়ি, ওয়া শামাতাতিল আদায়ি।

অর্থ: হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট কঠিন দুরাবস্থা, দুর্ভাগ্যের নাগাল, মন্দভাগ্য এবং দুশমনের হাসি থেকে রক্ষা কামনা করছি। -সহিহ বোখারি: ৬৩৪৭

আরেকটি দোয়া হলো-

اَللّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِيْ نُحُوْرِهِمْ وَنَعُوْذُ بِكَ مِنْ شُرُوْرِهِمْ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাজ আলুকা ফী নুহুরিহিম, ওয়া নাউজুবিকা মিন শুরুরিহিম।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা তোমাকেই তাদের মুখোমুখী করছি এবং তাদের অনিষ্টতা থেকে তোমারই কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।

কারও কারণে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করে থাকলে এই দোয়াটি বেশি করে পড়ুন। হজরত আবু মুসা আল আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত। নবী কারিম (সা.) যখন কোনো সম্প্রদায় দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা করতেন তখন দোয়াটি বলতেন। -সুনানে আবূ দাউদ: ১৫৩৭

এর বাইরে যথাসম্ভব সার্বক্ষণিক ইস্তেগফার করুন। কেননা হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করবে আল্লাহতায়ালা তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের সংস্থান করে দেবেন। -সুনানে আবূ দাউদ: ১৫২০

কোনো কোনো আলেম বলেন, যেসব যুবক-যুবতীদের বিয়ের বয়স অতিক্রম হয়ে যাচ্ছে কিন্তু বিয়ে হচ্ছে না, তাদের মধ্যে যুবকেরা ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কব্জি চেপে ধরে এবং যুবতীরা বাম হাত দিয়ে ডান হাতের কব্জি চেপে ধরে প্রত্যহ ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয়ের আগে ৪০ বার হিসাবে ৪০ দিন পর্যন্ত আল্লাহর গুণবাচক নাম ‘ইয়া ফাত্তাহু’ (يا فتّاح) অর্থ: হে উন্মুক্তকারী বা প্রস্তুতকারী-পড়লে দ্রত বিয়ে হয়।

আবার কোনো কোনো আলেম বলেন, চল্লিশ দিন সূরা মুমতাহিনা তেলাওয়াত করলে দ্রত বিয়ে হয়।

আমলের পাশাপাশি দয়াময় আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বৈধপন্থায় পাত্র-পাত্রীর সন্ধান ও চেষ্টা করুন। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। -সূরা তালাক: ৩

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহতায়ালার জন্য কর্তব্য হয়ে যায়। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী, চুক্তিবদ্ধ গোলাম যে তার মনিবকে চুক্তি অনুযায়ী সম্পদ আদায় করে মুক্ত হতে চায় এবং ওই বিবাহিত ব্যক্তি যে (বিবাহ করার মাধ্যমে) পবিত্র থাকতে চায়। -জামে তিরমিজি: ১৬৫৫

এরপর দীনদার ও চরিত্রবান পাত্র-পাত্রী পেলে তার প্রস্তাব নাকচ করা উচিত হবে না।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা যে ছেলের দ্বীনদারি ও চরিত্রের ব্যাপারে সন্তুষ্ট হতে পার সে যদি প্রস্তাব দেয় তাহলে তার কাছে বিয়ে দাও। যদি তা না কর তাহলে পৃথিবীতে মহা ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি হবে। -জামে তিরমিজি: ১০৮৪

এ সম্পর্কিত আরও খবর