প্রভাববিস্তারকারী লেখক কাফকার অজানা দিক
-
-
|

ফ্রাঞ্জ কাফকা
ফ্রাঞ্জ কাফকা
ছবি: সংগৃহীত
শরৎচন্দ্র কাশী বেড়াতে গেছেন। মনস্থির করলেন গঙ্গার ওপাড়ে রামনগর ঘুরে আসবেন। সকালবেলো নৌকা ভাড়া করে রামনগর পৌঁছুতেই দেখলেন, নদীর তীরে মরা পড়ে আছে। আরে একটা গাধা চরে বেড়াচ্ছে। শরৎচন্দ্রের সঙ্গীদের দেখিয়ে বললেন, ‘কাশীর মাহাত্বের চেয়ে রামনগরের মাহাত্ব বেশি। এখানে মরলে দেখছি স্য ফল পাওয়া যায়।’
সবাই উৎসুক হয়ে জানতে চাইলেন,‘কীরকম?’
শরৎচন্দ্র বললেন ‘কেন আপনারা জানেন না? কাশীতে মরলে স্বর্গবাস আর ব্যাসকাশীতে (রামনগর) মরলে গাধা হয়। ওই দেখুন না লোকটি মারা যেতে না যেতেই গাধা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে!’ এমন রসিকতায় সবাই হেসে উঠল।
বৈকুন্ঠের উইল, চরিত্রহীন, দেবদাস, গৃহদাহ এর মত সিরিয়াস লেখার লেখকের মুখে এরকম রসিকতা শুনে পাঠকমাত্রই অবাক হবেন। পাঠক তো ধারণা করে আছেন শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় মানেই তো রাসভারী বিষয় আসয়। কিন্তু উপরোল্লিখিত ঘটনা বুঝিয়ে দিল মজা করতেও তিনি কম যান না। শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় এর সাহিত্যখ্যাতি যেমন গগনচুম্বী, রহস্যে ঘেরা ব্যাক্তিজীবন তেমনি অতলস্পর্শী। তাঁকে নিয়ে পাঠকের অপার আগ্রহ। সেই আগ্রহের তৃঞ্ষা অনেকখানি মিটিয়েছেন লেখক তাপস রায়। তাপস রায়ের ‘রসিক শরৎচন্দ্র’ বইটিতে তিনি ব্যাক্তিজীবনের নানা ঘটনা থেকে হাস্যরসাত্বক ঘটনাগুলো ছেঁকে দর্শকদের সামনে মেলে ধরেছেন। ‘রসিক শরৎচন্দ্র’ বইটি ২০২৫ সালে অমর একুশে বইমেলাতে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি. থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এরই মধ্যে পাঠকদের হাতে হাতে এবং মনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ‘রসিক শরৎচন্দ্র’। বইটি পড়ে পাঠক অবাক বিস্ময়ে আবিষ্কার করবেন রসিক শরৎচন্দ্রকে। শরৎচন্দ্রের চরিত্রের বিভিন্ন অজানা দিক জানা হবে পাঠকের। সবকিছু ছাপিয়ে স্ফটিকস্বচ্ছ মেঘের ভেতর অবাক সূর্যরশ্মির মতো উঁকি েিব লেখকের রসবোধ।
শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় মজলিসি মানুষ ছিলেন। গল্প করার অনন্য সাধারণ ক্ষমতা ছিল তাঁর। সেই গল্পগুলোও একপ্রকার হাস্যপরিহাসেরই নামান্তর। তবে সেই হাস্যপরিহাসে নেই বিন্দুমাত্র স্থুলতা বা ভাঁড়ামির চিহ্ন। বরং সূক্ষ্ম রসবোধ, মার্জিত রুচি তাতে যুক্ত করেছে ভিন্নমাত্রা।
শুধু শরৎসাহিত্যে আগ্রহী পাঠক নন, যে কোনো পাঠক এই বইয়ের রসে সিক্ত হতে হতে খেয়ালি, আত্মভোলা,আত্মপ্রচারবিমুখ, অভিমানী, বন্ধুবৎসল, দেশপ্রেমিক, রাজনীতি সচেতন শরৎচন্দ্রের সঙ্গে পরিচিত হবেন। পাতায় পাতায় পড়বেন তাঁর ব্যক্তিজীবনের সরস গল্প।
চলুন পাঠক তাহলে এই বই থেকেই একটা সরস গল্প আপনাদের জানিয়ে শেষ করি এই লেখার।
শরৎচন্দ্র সেসময় খ্যাতির মধ্যগগনে। এমন সময় আরেক শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যয়ের আবির্ভাব হলো। তিনিও লেখক। ‘শান্তিজল’, ‘চাঁদমুখ নামে উপন্যাস লিখেছেন। ‘গল্পলহরী’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
একদিন শরৎচন্দ্র কোথায় যেন যাচ্ছিলেন,পথে বাল্যবন্ধুর সঙ্গে দেখা। অনেকদিন পর দুজনের দেখা হওয়ায় বাল্যবন্ধুর চোখেমুখে প্রশ্ন দেখে শরৎচন্দ্র বললেন,‘কী হে আমাকে চিনতে পারলে না! আমি শরৎ’।
বন্ধুটি তখন চিনতে পারলেও রসিকতা করে বললেন, ‘আজকাল তো সাহিত্যের বাজারে দুজন শরতের আর্বিভাব ঘটেছে। তুমি কোনজন?’
শরৎচন্দ্র পালটা রসিকতা করে বললেন,‘আমি চরিত্রহীন’।
এমন মজার মজার রসাত্বক আরো ঘটনা পাবেন ‘রসিক শরৎচন্দ্র’ বইটিতে। তো আর দেরি কেন পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি. থেকে প্রকাশিত বইটি সংগ্রহ করে ফেলুন আজই। এর প্রচ্ছদ করেছেন মলয় চন্দন সাহা। বইটির মূল্য ২৫০ টাকা।
ছবি: বার্তা২৪.কম
নূরজাহানের শরীর পুড়েছিল ফতোয়ার আগুনে,
তার আর্তনাদ পাহাড়, সাগর, নদী পেরিয়ে পৌঁছেছিল অলিতে-গলিতে!
কিছুদিন কেঁদেছিল মানুষ,
কিছু মোমবাতি জ্বলেছিল সন্ধ্যার শরীরে।
নারীরা এসেছিল তার কবরে,
ফুল রেখেছিল শপথ করেছিল—
"ভুলবো না!"
তারপর? তারপর?
নূরজাহানের নাম কেবল পুরনো খবরে ঠাঁই নিয়েছে।
শুধু নতুন কোনো নারী যখন ঝরে যায়
তখন কয়েক মুহূর্তের জন্য জেগে ওঠে স্মৃতি,
পরে আবার নীরবতা!
আজ আছিয়া ধর্ষিত হয়ে মরলো!
শিশুর শরীরটাও রেহাই পেল না হিংস্রতার থাবা থেকে!
আবারও দেশ কাঁপলো,
আবারও প্রতিবাদের শব্দ উঠলো আকাশে।
আইন, বিচার, শাস্তির দাবি—
সবকিছুই চলছে ঠিক আগের মতো!
কিন্তু কতদিন মনে থাকবে আছিয়াকে?
কয়েকটা দিন কিছুটা শোরগোল,
তারপর আবার আমরা ভুলে যাবো?
নতুন কোনো নূরজাহান, নতুন কোনো আছিয়া
আবার আমাদের বিবেককে নাড়িয়ে দেবে,
আর আমরা তখনও শুধুই লিখে যাবো?
সংখ্যা বাড়বে লাশ জমবে
খবরের কাগজ বিক্রি হবে, কবিতা লেখা হবে গল্প হবে!
কিছু মা-বাবার চোখ থেকে কয়েক ফোঁটা জল গড়াবে,
আর আমরা শুধু প্রশ্ন করে যাবো—
আর কতদিন?
আর কতদিন মনে রাখতে হবে?
আর কতগুলো নাম হিসেবের খাতায় জমা হবে?
ছবি: বার্তা২৪.কম
মানুষ নাকি পশু?
চারপাশে ঘুরে বেড়ায় মুখোশধারী শকুন,
যারা রক্তের গন্ধ পেলে বুনো হিংস্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে।
আট বছরের শিশুটিও রেহাই পেল না,
সে তো জানতই না—
বিশ্বাসঘাতকতা কাকে বলে!
সে গিয়েছিলো বোনের বাড়ি!
খেলবে, হাসবে,
সকালে বিকালে দৌড়াবে নতুন জায়গার মাঠে,
কিন্তু মৃত্যুর কফিন সাজিয়ে রেখেছিল এক নরপিশাচ।
সে তো জানত না,
এই পৃথিবীতে কিছু মানুষ নামের
আছে হিংস্র জন্তুর দল।
সে তো বুঝতে পারেনি,
যে হাত তাকে আশ্রয় দেবে,
সেই হাতই তাকে মৃত্যুর দ্বারে পৌঁছে দেবে।
কে দেবে তার কান্নার জবাব?
কে দেবে তার মা’র শূন্য কোলের উত্তর?
কে বলবে পোশাক ছিল দোষী?
সে তো শিশু, তার তো পোশাকও ছিল অবুঝ!
তবু সমাজ চুপ থাকবে,
সামাজিক বিচার আবার অন্ধ হবে,
মিছিল উঠবে, প্রতিবাদ হবে,
তারপর?
তারপর আবার নতুন কোনো নাম
সংবাদপত্রের শিরোনাম হবে!
তারপর?
তারপর আবার ন্যায়ের নামে চলবে বিচারহীন প্রহসন,
আবার কোনো মায়ের বুক ফেটে যাবে, তবু শাসক নির্বাক!
তারপরও অন্ধ সমাজ মেনে নেবে নিয়মের শিকল,
যেখানে অপরাধীর নয়, ভুক্তভোগীর কাঁধেই দায় থাকে!
তবু আমরা চুপ থাকি, তবু আমরা সহ্য করি,
পোশাক, চরিত্র, সমাজ—সব প্রশ্ন তোলে নিরীহ দিকেই!
যতদিন না শকুনের ডানা ভেঙে পড়বে রাস্তায়,
ততদিন থামবে না নিষ্পাপ শিশুর রক্তস্নান!
ছবি: সংগৃহীত
২০২৫ সালের অমর একুশে বইমেলায় পাঠকের নজর কেড়েছে ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের রচিত গ্রন্থ "ক্যান্সার থেকে বাঁচতে হলে জানতে হবে"।
বইটি প্রকাশ করেছে অমর প্রকাশনী। বইটি মূল্য রাখা হয়েছে ২১০ টাকা। রকমারিসহ যেকোনো অনলাইনবুক শপ থেকে বইটি সংগ্রহ করা যাবে। গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে বাংলাদেশের সকল ক্যান্সার রোগীদের প্রতি, যারা এই মরণব্যাধির বিরুদ্ধে জীবনযুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন।
২০২৫ সালের একুশে বইমেলায় বইটি সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের তালিকায় স্থান করে নেয়। বাংলা একাডেমির মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে বইটির বিপুল জনপ্রিয়তার স্বীকৃতিস্বরূপ লেখককে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এসময় সম্মাননা স্মারক হাতে তুলে দেন বাংলা একাডেমির উপর পরিচালক ডক্টর শাহেন মূনতাজ।
এবারের বই মেলায় এই লেখকের আরও দুটি বই প্রকাশ করেছে অমর প্রকাশনী। নিরাপদ মাতৃত্ব শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশ এবং বাস্তব জীবনে AI-এর প্রভাব ও টুলসের ব্যবহার এই শিরোনামের বই দুটো পাঠকদের কাছে বেশ সমাদৃত হয়েছে।
লেখক ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর একজন সমাজসেবক, জনস্বাস্থ্য ক্যান্সার প্রতিরোধ গবেষক ও ব্যাংকার। যিনি তার কর্মজীবনের সমস্ত আয় মানবসেবায় দান করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসহায় ও অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সুস্থ জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টায় কাজ করে যাচ্ছেন।