মুক্তির সংগ্রামের জন্য কর্মীদের প্রস্তুত হতে বললেন জিএম কাদের
-
-
|

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি
রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছে, ত্রিশ লাখ শহীদ জীবন দিয়েছে, লাখ লাখ মা-বোন সম্ভ্রম দিয়েছে সেই মুক্তি আমরা আজো পাইনি। তাই মুক্তির সংগ্রাম এখনও শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি।
রোববার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে জাপার বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
জিএম কাদের বলেন, আমরা স্বাধীনতা, ভূখণ্ড আর পতাকা পেলেও মুক্তি পাইনি। আবারও মুক্তির সংগ্রাম শুরু করতে হবে, এবারের মুক্তির সংগ্রাম হয়তো আরও কঠিন হবে। মুক্তি সংগ্রামে হয়তো আরও বেশি ত্যাগ স্বীকার করতে হবে, আরও বেশি রক্ত দিতে হবে।
তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকেই আমরা শোষণ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের সঙ্গে বৈষম্য শুরু করে। আমাদের সম্পদ লুট করতে শুরু করে তারা। বাঙালিদের তারা দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করে। এর প্রতিবাদেই আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। আমরা স্বাধীনতা পেলেও এখনো মুক্তি পাইনি। ১৯৯১ সালের পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বারবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে দেশের মানুষের সাথে বৈষম্য শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি না করলে যোগ্যতা থাকলেও চাকরি মেলে না, ব্যবসা করতে পারে না। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী গেল ৬ বছরে ৪ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। এর বাইরে আরও কত শত কোটি টাকা পাচার হয়েছে তার হিসেব নেই।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ওপর হামলা, বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় পার্টি প্রার্থীদের মাঠে দাঁড়াতে দিতে চাচ্ছে না, পাশাপাশি নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারে চাপ দিচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হতে সরকার সমর্থকরা সব ধরনের অনিয়ম করছে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই, খাবার ও কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা নেই। রাস্তায় প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে, যেন দেখার কেউ নেই।
তিনি আরও বলেন, গণপরিবহন কারা পরিচালনা করে তা কেউ জানে না। গণপরিবহন পরিচালনায় সরকারের কোন হাত নেই তা বোঝাই যায়। কিন্তু, মাঝে মাঝে মনে হয়, যারা গণপরিবহন পরিচালনা করেন তারাই সরকার পরিচালনা করেন। সরকারি দল আনন্দ-ফুর্তি করতে মাঝে মাঝে রাস্তা দখল করে। এসময় লাখো মানুষ সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হয়, অসুস্থ রোগীরা হাসপাতালে যেতে পারে না। পরে সরকারি দলের পক্ষ থেকে একটি দুঃখ প্রকাশ করা হয়, যেন তাদের ফুর্তি করাটাই সবচেয়ে জরুরি।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, আওয়ামী লীগের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের সাথে আমাদের সমর্থন নেই, কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিষয়ে আমাদের কোন দ্বিমত নেই। আওয়ামী লীগের সাথে আমরা এক তরফা প্রেম করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তাই আগামীতে নিজস্ব কর্মসূচি নিয়ে গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণের রাজনীতি নিয়ে এগিয়ে যাবে জাতীয় পার্টি।
জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাথে কোন দল কি আচরণ করেছিলো আমরা তা ভুলিনি। যারা এরশাদকে স্বৈরাচার বলেন, তারা নিজেদের চেহারা একটু আয়নায় দেখে নিন।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, প্রেসিডিয়াম সদস্য এমএম আব্দুল মান্নান, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, এডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মিয়া, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য শেরীফা কাদের এমপি, ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, মহিলা পার্টির সদস্য সচিব হেনা খান পন্নি, জাতীয় স্বেসেবক পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন, জাতীয় যুব সংহতির সদস্য সচিব আহাদ ইউ চৌধুরী শাহীন, জাতীয় ছাত্র সমাজ-এর সহ সভাপতি শাহ ইমরান রিপন।