সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা শোবিজ অঙ্গনের মানুষদের উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত করেছে। অনেকে এও ভাবছেন যে, শিল্পীর স্বাধীনতা ও পেশার প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে ঘটনাগুলো। এ নিয়ে এরইমধ্যে কথা বলেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণি।
তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘এতো চুপ করে থাকা যায় নাকি! পরাধীন মনে হচ্ছে। শিল্পীদের এতো বাধা কেন আসবে!? ইনসিকিউর ফিল হচ্ছে ! এমন স্বাধীন দেশে নিরাপদ নই কেন আমরা! মেহজাবীন, পড়শী এর আগে এমন হেনস্থার শিকার হয়েছেন! ধর্মের দোহাই দিয়ে কি প্রমাণ করতে চলেছেন তারা? কি বলার আছে আর ….এ দেশে সিনেমা/ বিনোদন সব বন্ধ করে দেয়া হোক তাহলে! তাহলে কি আমরা ধরে নেব, আমরা ইমোশনালি ব্যবহার হয়েছিলাম তখন! নাকি এখন হচ্ছি? কোনটা? এই দায়ভার কিন্তু আমাদের সবার নিতে হবে।‘
পরীমণি স্ট্যাটাসটি লিখেছিলেন টাঙ্গাইলে একটি শো রুম উদ্বোধনীতে তাকে বাধা দেওয়ায়। এই স্ট্যাটাসের পর বিষয়টি গণমাধ্যমেরও দৃষ্টি কাড়ে। কিন্তু তাতে তেমন কিছুই হয়নি। পরীর পর অপু বিশ্বাসেরও সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটে। গতকাল আবার খবর আনে, চট্টগ্রামে হাবিব ওয়াহিদের কনসার্ট স্থগিত করা হয়েছে!
এ নিয়ে অবশেষে কথা বলেছে ছোটপর্দার অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘ। আজ রবিবার বিকেল ৫টার দিকে এক লিখিত বিবৃতিতে এই সংগঠনের তৃতীয় বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৫-এ উপস্থিত সকল সদস্যদের পক্ষে সভাপতি ও অভিনেতা আহসান হাবীব নাসিম এবং সাধারণ সম্পাদক ও অভিনেতা রওনক হাসান হাসান, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা আমাদেরকে উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত করেছে এবং শিল্পীর স্বাধীনতা ও পেশার প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে । আমরা লক্ষ্য করেছি নারী অভিনয়শিল্পীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে। আমরা অবগত হয়েছি যে, কয়েক স্থানে শুটিং করার ব্যাপারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এ সকলই আমাদের স্বাধীন পেশা হিসেবে কর্ম পরিচালনায় শঙ্কা তৈরি করছে।’
সেই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘কোন কোন সময় কোন কোন অভিনয়শিল্পীকে সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বিদেশ গমনে বাধা প্রদান করা হয়েছে। যদি কোন অভিনয়শিল্পী কোনো রকম অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকেন তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে রাস্ট্রের প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে। কিন্তু অহেতুক হয়রানি বন্ধ করা না গেলে- ভয়, শঙ্কাহীন ও স্বাধীনভাবে শিল্প সংস্কৃতির চর্চা করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এতে দেশীয় শিল্প সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভিনদেশী ও অপসংস্কৃতির বিস্তার ঘটার আশঙ্কা তৈরি হবে।’
পরিশেষে বলা হয়, ‘আমরা এ বিষয়ে সরকার ও যথাযথ কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি এবং আশু সমাধান দাবি করছি। এই মুহূর্তে সকলকে সাথে নিয়ে আগামী দিনের বৈষম্যহীণ, গণতান্ত্রিক ও সংস্কৃতি বান্ধব বাংলাদেশ বিনির্মাণ হোক আমাদের সকলের লক্ষ্য।’