ইসরায়েল ও ভারত মুসলিম নিধনে নেমেছে: হেফাজতে ইসলাম

  • স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
  • |
  • Font increase
  • Font Decrease

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, ভারত ও ইসরায়েল যৌথভাবে মুসলিম নিধন করছে। মুসলমানদের রক্তে রঞ্জিত করছে পৃথিবীর মানচিত্র। এই যৌথ শক্তিকে রুখতে সারাবিশ্বের মুসলমান ও বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সরকারকে আহবান জানাই।

শুক্রবার (২১ মার্চ) দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে গাজায় নির্যাতিত মুসলমানদের ওপর ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলা ও ভারতে মুসলিমদের ওপর আগ্রাসনের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

মামুনুল হক বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের প্রতি আমরা আহবান জানাই, ফিলিস্তিনে এভাবে নারী শিশুদের ওপর আগ্রাসন বন্ধ করতে না পারেন তাহলে এই হামলা সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আমরা দ্রুত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার দাবি জানাই। আরব লীগ ও ওয়াইসিসহ মুসলমানদের সকল সংগঠনগুলো মিলে জাতিসংঘের নির্লিপ্তার প্রতিবাদ জানিয়েছে সবাই মিলে বিশ্ব মুসলমানদের দায়িত্ব কাধে তুলে নেন। আপনারা ফিলিস্তিন মুক্ত করতে সারাবিশ্বে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হতে আহবান জানান।

এ দিকে ফিলিস্তিনের ইস্যুর পাশাপাশি ভারতের মুসলমানদের রক্ত দিয়ে হোলি খেলার পায়তারা চলছে। তিনশত বছরের ঐতিহ্যকে মুছে ফেলতে ইসলামি শাসনের উজ্জ্বল নক্ষত্র

বিজ্ঞাপন

আওরাঙ্গাজেব আলমগীর (রঃ) এর সমাধি উৎখাত করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আমরা ভারত সরকারকে বলতে চাই, আওরাঙ্গাজেবের সমাধিতে একটি আঘাত ভারতকে খান খান করে দেবে। যদি কোনো আঘাত করা হয় তাহলে সেটাকে আমরা গাজওয়াতুল হিন্দের প্রতি আঘাত হিসেবে বিবেচনা করবো। আমরা বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করবো শুধুমাত্র নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন না করে ভারতের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে আওরাঙ্গাজেবের সমাধিকে কেন্দ্র করে যে দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করা হচ্ছে সেটাকে যেনো বন্ধ করা হয়। আর যদি ভারত সেটা করতে ব্যার্থ হয় তাহলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের বিরুদ্ধে কূটনীতিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভারত ও ইসরায়েল যৌথভাবে মুসলিম নিধন করছে। মুসলমানদের রক্তে রঞ্জিত করছে পৃথিবীর মানচিত্র। এই যৌথ শক্তিকে রুখতে সারাবিশ্বের মুসলমান ও বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সরকারকে আহবান জানাই।

অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা অফিসার ড. ইউনুসের উদ্দেশ্যে মামুনুল হক বলেন, ড. ইউনুস একজন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফিলিস্তিন ও ভারতের মুসলমানদের রক্ষা অগ্রণী ভূমিকা পালন করুন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আপনার ও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই বাংলাদেশে চাইলের বিরুদ্ধে কঠোরতা চলে আসছে সেই কঠোরতায় কোনো ধরনের রদবদল মেনে নেওয়া হবে না। বিগত ফাঁসিবাদী ভারতের দালাল, ভিনদেশী দালাল হাসিনা বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে ইসরাইলের নিষেধাজ্ঞার যে চিহ্ন ছিলো তা ভারতের নির্দেশে সেই চিহ্ন তুলে দিয়েছিল। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা ইসরাইলের প্রতি নমনীয় নীতি গ্রহণ করেছিল। বর্তমান সরকারকে সেই নিষেধাজ্ঞা আবারও পাসপোর্টে বসানোর দাবি জানাই।

ইসরায়েল ও ভারতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নব্য ফেরাউন এদেশের শান্তি প্রিয় মুসলমানদের হত্যায় মেতে উঠে ছিলো। ২০২১ সালে মোদী বিরোধী আন্দোলনে হাটহাজারী থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত হেফাজতে ইসলামের ২৫ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই আগস্টে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে দুই হাজার ছাত্র জনতার রক্তের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নাম নিসানা এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না। শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশে রাজনীতিতে আগুন জ্বালাতে আমি নিষেধ করব। খবরদার আগুন নিয়ে খেলবেন না। এদেশের প্রতিটি মানুষ হৃদয়ে আগুন জ্বলছে। আবার বাংলার মাটিতে শহীদের রক্তের দাগ মুছে যাওয়ার আগেই তারা রাজনীতির পায়তারা করছে। আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসতে হলে আমাদের লাশের উপর দিয়ে আসতে হবে। রক্ত দেবো, জীবন দেব। বাংলাদেশ বিরোধী শেখ হাসিনা ও তার লেসপন্সরদের যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দিব। আমরা শেখ হাসিনা তার মন্ত্রিসভাসহ সফল সহযোগীদের দ্রুত বিচার কার্যকালের দাবী জানাচ্ছি।

বিক্ষোভ সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব। এছাড়াও অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন হযরত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদি, নায়েবে আমির আহমাদুল কাসেমীসহ ইসলামের ঢাকা মহানগর ও কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।