বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের শাহাদাতবার্ষিকী
-
-
|

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ
বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৪৮তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গোয়ালহাটি গ্রামের সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন নূর মোহাম্মদ শেখ। যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়।
নূর মোহাম্মদ শেখের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে নূর মোহাম্মদ নগরে জেলা প্রশাসন ও বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ট্রাস্টের আয়োজনে মাজার জিয়ারত, র্যালি, পুষ্পমাল্য অর্পণ, সশস্ত্র সালাম, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল জেলার মহিষখোলা গ্রামে (বর্তমানে নূর মোহাম্মদ নগর) জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. আমানত শেখ ও মাতা মোসা. জেন্নাতা খানম। শৈশবেই বাবা-মাকে হারান নূর মোহাম্মদ।
১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ নূর মোহাম্মদ তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রেজিমেন্টে যোগদান করেন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে প্রশিক্ষণ শেষে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর দিনাজপুর সেক্টরে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন।
এরপর ১৯৭০ সালের ১ জুলাই যশোর সেক্টর হেড কোয়ার্টারে বদলি হয়ে আসেন নূর মোহাম্মাদ শেখ। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধকালে ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ ৮ নং সেক্টরে সাবেক ইপিআর ও বাঙালি সেনাদের নিয়ে গঠিত একটি কোম্পানিতে যোগদান করেন।
১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নূর মোহাম্মদ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গোয়ালহাটি গ্রামের সম্মুখযুদ্ধে একটি টহলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তার সঙ্গী ছিলেন আরও ৪ জন সৈন্য। তারা পার্শ্ববর্তী ছুটিপুর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ঘাঁটির ওপর নজর রাখছিলেন। পাকিস্তানি বাহিনী টের পেয়ে বিপজ্জনক অবস্থার মুখে টহলদারী মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা করে।
হানাদারদের এই পরিকল্পনা বুঝে উঠতেই নূর মোহাম্মদ সঙ্গীদের নিয়ে হানাদার বাহিনীর ঘাঁটি আক্রমণ করেন। শুরু হয় সম্মুখযুদ্ধ। মারাত্মক আহত হলেন সঙ্গী নান্নু মিয়া। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হানাদারদের মর্টার শেল মারাত্মকভাবে জখম করে নূর মোহাম্মাদকে। মৃত্যু আসন্ন বুঝে তিনি সিপাহী মোস্তফা কামালের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিয়ে আহত নান্নু মিয়াকে নিয়ে সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলেন।
উপায়ান্তর না পেয়ে সঙ্গীরাও তাই করলেন। কিন্তু একটি এসএলআর রেখে যান মারাত্মক আহত কমান্ডারের কাছে। নূর মোহাম্মাদ মৃত্যুপথযাত্রী হয়েও এসএলআর নিয়ে শেষবারের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েন হানাদারদের ওপর। সেখানেই তিনি শহীদ হন।
পরবর্তীতে নিকটবর্তী একটি ঝোঁপের মধ্যে এই বীরের মরদেহ পাওয়া যায়। শত্রুর বেয়নেটে তার দেহ ছিল ক্ষত-বিক্ষত, চোখ দু’টি কোটর থেকে উপড়ে ফেলেছিল নরঘাতকরা। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করা হয়।