দ্রুত জাতীয় নির্বাচন দরকার, সবাই বুঝলেও সরকার বুঝে না: দুদু

  • স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
  • |
  • Font increase
  • Font Decrease

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি'র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, দেশে যে সংকট তৈরি হয়েছে এই সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য দ্রুত জাতীয় নির্বাচন দরকার এই বিষয়টি দেশের সাধারণ মানুষ সবাই বুঝতে পারছে কিন্তু সরকার বুঝতে পারছে না। সরকার বুঝলেও তা করছে না।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে এক নাগরিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

দুদু বলেন, দেশে যে সংকট তৈরি হয়েছে এই সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য দ্রুত জাতীয় নির্বাচন দরকার, এই বিষয়টি দেশের সাধারণ মানুষ সবাই বুঝতে পারছে কিন্তু সরকার বুঝতে পারছে না। সরকার বুঝলেও তা করছে না। এই সরকার গঠন হয়েছে সাত মাস চলে। এই সাত মাসে কোন সংস্কার তারা করতে পারে নাই। এমনকি বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে রকম ছিল এখনো সে রকম আছে।

তিনি বলেন, হাসিনার আমলে মামলা হয়েছে, গুম, খুন হয়েছে। বিএনপি'র নেতায়েকর্মীদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন হয়েছে। ৬০ লক্ষ মামলা হয়েছে। সেই মামলাগুলো এই সরকার এখনো প্রত্যাহার করেনি। হাসিনার সাথে এই সরকারের যে পার্থক্য থাকার কথা। মামলা প্রত্যাহার না করার প্রেক্ষিতে বোঝা যায়। হাসিনার একটি কাজের স্বীকৃতি এ সরকার পরোক্ষভাবে হলেও দিয়েছে। আমরা এটা প্রত্যাশা করিনি। ডক্টর ইউনুস এর নামে যে মামলা গুলো ছিল তিনি ক্ষমতায় আসার পরে সবগুলো প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অন্যায়ভাবে তার নামে মামলা দেয়া হয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার করেছে ঠিক আছে। কিন্তু গত ১৬ থেকে ১৭ বছর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা যে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। যার জন্য অত্যাচারিত হয়েছে। গুম খুন হয়েছে তেমনি মামলা শিকার হয়েছে সেই মামলাগুলো প্রত্যাহার করার উচিত ছিল। আমি অতি দ্রুত সেই মামলাগুলো প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, হাসিনার আমলে গুম খুন হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না। মানুষের বাক স্বাধীনতা ছিল না। আইন আদালত ব্যবহার করে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য নিষিদ্ধ করেছিল। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করা হয়েছিল। সেই সময়েও আইনশৃঙ্খলা বলতে কিছু ছিল না। এখনো মানুষ রাস্তায় বের হতে ভয় পায়। কোন নির্জন জায়গায় একা গেলে তার ওপর গুলি করা হচ্ছে, ছিনতাই করা হচ্ছে শেখ হাসিনার আমল এবং বর্তমান আমল আমি পার্থক্য করতে পারছি না। তাই সরকারকে বলব আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো করার জন্য। যদি না করতে পারে তাহলে এখনো তাদের যে জনপ্রিয়তা আছে তা শূন্যর কোঠায় নেমে যাবে।

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, সরকারের প্রতি এদেশের জনগণ ভালোবাসা ও সমর্থন জানায়। কিন্তু কাজের কাজ না করলে মানুষ সমর্থন প্রত্যাহার করতে বিন্দু পরিমাণ সময় নিবে না। সেইজন্যে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষের কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। নিরাপদে যাতে চলতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, সীমান্তে পার্শ্ববর্তী দেশ অতীতে যেমন বাংলাদেশিদেরকে গুলি করতে হত্যা করত এখনো করছে। কিন্তু সরকার এর কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এর ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা কোন দেশের সাথে শত্রুতা চায় না সবার সাথেই বন্ধুত্ব চাই। কিন্তু ফারাক্কায় পানি নাই, তিস্তায় পানি নাই। এর ব্যবস্থা করতে হবে। যদি এর ব্যবস্থা সরকার করতে না পারে। তাহলে দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন। জনগণের সরকারের হাতে ক্ষমতা দেন। যে দল ক্ষমতায় আসবে তারা এর ব্যবস্থা করবে।

আয়োজক কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে নাগরিক সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপি'র নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোঃ রহমতুল্লাহ, জাসাসের সাবেক সভাপতি রেজাবউদ্দৌলা, সাবেক কৃষক নেতা এসকে সাদী, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর আমির হোসেন আমুসহ প্রমুখ।