বার্তা২৪'র মিলনমেলা: নানা পথে, এক ছাদে

, জাতীয়

সীরাত মঞ্জুর, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চট্টগ্রাম | 2025-02-28 20:41:42

শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি। 'বার্তা' পরিবারের জন্য বিশেষ একটি দিন। নানা পথে এসেছে এক হওয়ার দিন৷ মিলনমেলা? -এটা শুধু একটি মিলনমেলা নয়, এটি বার্তা২৪.কম-এর এক অনন্য উদযাপন, এক পরিবার হয়ে ওঠার গল্প। রাজধানী ঢাকার বাংলামোটর এলাকায় পদ্মা টাওয়ারে আজকের আয়োজন যেন এক আলাদা জগৎ তৈরি করেছে। একসাথে বসে, আড্ডা মেরে, বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলার এই মুহূর্তটিই ছিল প্রকৃতপক্ষে সেই যে একটি সংবাদ পরিবারে কাজ করার আসল আনন্দ।


এদিন ভোররাত থেকে ঢাকা আসতে পথে পথে ছুটেছেন বার্তা২৪-এর বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধি। রাজবাড়ী থেকে সোহেল মিয়া যখন পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঢাকায় পৌঁছেছেন, তখন তার চোখে ছিল একটি গভীর অভিব্যক্তি—এটি আমার বাড়ি, এটি আমার পরিবারের মতো। আমরা এখানে শুধু কাজের জন্য একত্রিত হই না, আমরা একে অপরের জীবনও শেয়ার করি।


বরিশাল থেকে লঞ্চে এসেছেন তুহিন হোসেন। তার সঙ্গে ছিল বরিশালের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি। তিনি বলেন, এখানে শুধু সহযোগিতা নয়, একে অপরকে বোঝার প্রক্রিয়াও রয়েছে। আজকের এই আয়োজন আমাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। বার্তা২৪ শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের জন্য এক আশ্রয়ের জায়গা।


কক্সবাজার থেকে উড়ে এসেছেন আব্দুর রশিদ মানিক। বিমান থেকে নামার পর তার মনে হয়েছে, আজকের এই দিনটা ছিল এক পরিবারের মধ্যে মিলনের দিন। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকেই দিনের পর দিন মাঠে কাজ করি। কিন্তু আজকের এই মিলনমেলা এক বিশেষ মুহূর্ত, যেখানে আমরা একে অপরকে বুঝতে, মূল্যায়ন করতে এবং একসাথে উদযাপন করতে পারছি।

চট্টগ্রাম থেকে সীরাত মঞ্জুর এসেছেন গণি বেকারির ‘বেলা বিস্কুট’ নিয়ে। তিনি বলেন, যেখানে আমরা কাজ করি, সেটি আমাদেরই ঘর। এই মিলনমেলা সে ঘরটিকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।


পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে নুরুচ্ছফা মানিক আসেন পাহাড়ি পরিবেশের সুর নিয়ে। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি মিলনমেলা নয়, এটি এক জীবন্ত সম্পর্কের উদযাপন। আমরা আজ একে অপরকে আরও ভালোভাবে জানার সুযোগ পেয়েছি।

এই মিলনমেলায় সুলতানা জাহান শিমু এবং মানসুরা চামেলি ছিলেন সেই শক্তি, যারা পুরো আয়োজনের গতিশীলতা বজায় রেখেছিলেন। তাদের ব্যবস্থাপনায় এবং পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি হয়ে উঠেছিল এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। শিমু আপু পুরো আয়োজনের প্রতি মনোযোগ দিয়েছিলেন, যেন কোনো কিছু বাদ না পড়ে, আর চামেলি আপু ছিলেন সেই সিংহভাগ সহযোগী যিনি রাত থেকে প্রতিনিধিদের খোঁজখবর নিচ্ছিলেন, তাদের প্রয়োজনীয়তাগুলো পূরণের জন্য কাজ করছেন।


এই মিলনমেলা শুধু কিছু ঘণ্টার আড্ডা নয়। এটি একটি উদযাপন, এক সৃজনশীল মেলবন্ধন, যেখানে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা সবকিছুই জড়িয়ে রয়েছে। দিনভর নানা কর্মসূচি, আলোচনা, এবং স্মৃতিচারণার মধ্যে এটি যেন এক অভিনব পরিবারের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বার্তা২৪ পরিবার এখানেই একত্রিত হয়েছে, কিন্তু এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়ে চলমান থাকবে। আসল গল্পটা এখানেই—মিলনমেলা শেষ হলে না, সম্পর্কের এই বন্ধনই সবসময় চলতে থাকবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর