মেডিকেলে মশারি ছাড়াই ডেঙ্গু রোগী
-
-
|

ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।
দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের মশারি ছাড়াই রাখা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ওই হাসপাতালে ৮ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে।
রোববার (২৮ জুলাই) বিকেলে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ৮ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ৫ জনকে আলাদা করে একটি রুমে রাখা হয়েছে। বাকি ৩ জন হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডের অন্যান্য রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসা গ্রহণ করছে। হাসপাতালের যে রুমে ৫ জন ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তাদের কাউকেই মশারি টাঙাতে দেখা যায়নি। এতে করে পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি অন্যান্য রোগীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত প্রায় সবাই ঢাকা থেকে সংক্রমণ নিয়ে দিনাজপুরে এসেছে অথবা ঢাকা থেকে এসে দিনাজপুরে আক্রান্ত হয়েছে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি।
ঢাকা কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়েন মিলন বাদশা। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা থেকে দিনাজপুরে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকাতেই আমার ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তির জন্য গেলে জায়গা সংকটের কারণে দিনাজপুরে চলে এসেছি। দিনাজপুরের বাসিন্দা আমি।’
মাস খানেক আগে ঢাকায় বোনের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন সদর উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের মো. নাহিদ হাসান (১৮)। তিনি বলেন, ‘আমি মাসখানেক আগে ঢাকায় বোনের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। কয়েকদিন আগে বাড়িতে এলে শরীরে জ্বর অনুভব করি, ডাক্তার আমাকে পরীক্ষা করাতে বললে আমার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। তারপর হাসপাতালে ভর্তি হই।’
এ বিষয়ে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ৮ জন ডেঙ্গু রোগী পেয়েছি। তারা সবাই ঢাকা থেকে এখানে এসেছে। মূলত ঢাকা থেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তারা এখানে এসে ভর্তি হয়েছে।’
তিনি জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত সবাইকে মশারি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়াও তাদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্ত রোগীরা সাবধান থাকলে বাইরে এই রোগ তেমন ছড়ানোর সম্ভাবনা নেই।
তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা স্থানীয় কোনো ডেঙ্গু রোগী পাইনি।’