চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গত আসরে সেমিফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ। এবারের আসরে তাই টাইগারদের উপর প্রত্যাশাও বেশি ছিল। প্রত্যাশার স্বপ্ন অবশ্য বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তই দেখিয়েছিলেন। দেশ ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে বলে গিয়েছিলেন চ্যাম্পিয়ন হতেই যাচ্ছেন। তবে শান্ত’র কথা যে অনেকটা মিথ্যা আশ্বাস ছিল সেটা বুঝতে খুব একটা দেরী হয়নি বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্ত-সমর্থকদের। টুর্নামেন্টে সবার আগেই ছিটকে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ জয় দিয়ে শেষ করতে চেয়েছিল হয়তো বাংলাদেশ। তাতে সমালোচনার বোঝাটা কিছুটা হলেও কমতো। তবে তা আর হয়নি। সেটার সুযোগও পেল না বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের শেষ ম্যাচ। অবশ্য পাকিস্তানকে হারাতে পারতো কিনা বাংলাদেশ সেটাও প্রশ্নের দাবিদার। সেক্ষেত্রে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়াতে শান্তদের অবশ্য ভালোই হয়েছে। পকেটে করে আসরের একমাত্র প্রাপ্তি এক পয়েন্ট নিয়ে দেশে ফিরতে পারছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
বিশ্ব আসরে বাংলাদেশ বরাবরই ব্যর্থ। এবার যে তার ব্যতিক্রম হবেনা এটা জানা টাইগার ভক্তদেরও। তাই তো প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন হতে যাওয়া বাংলাদেশ দলের হারের পরও ভক্ত-সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি খুব একটা। দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও সহজ হার কাঠগড়ায় দাড় করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের।
তবে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীরা যতটা লড়াই প্রত্যাশা করেছিল ক্রিকেটারদের কাছে সেটা কি পূরণ হয়েছে? প্রশ্নের উত্তরটাও খুব সহজ। প্রত্যাশার এক শতাংশ পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। এমন ভরাডুবির দায় অবশ্য পুরোটাই ব্যাটারদের। বোলাররা আসর জুড়ে কিছুটা প্রশংসা কুড়ালেও ব্যাটাররা ব্যর্থ হয়েছেন দুই ম্যাচেই। ব্যাটিংয়ে পারফরম্যান্স বলতে তাওহিদ হৃদয়ে ভারতের বিপক্ষে শতক আর জাকের আলির দুই ম্যাচেই দলকে সম্মানজনক পুঁজি এনে দেয়ার লড়াই। এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শান্ত’র ধীরগতির ৭৭ রানের ইনিংসও আসবে আলোচনায়। এছাড়া ব্যাটিংয়ে এ আসরে বাংলাদেশের কোনো অর্জন নেই।
প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে শুরুটা ভালো করার পরেও বাংলাদেশ থেমেছে ২৩৬ রানে। এমন কম পুঁজিতে বোলারদের অবশ্য তেমন কিছু করার থাকেনা। তবে যতটা করার কথা ছিল তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানদের সেটা করতেও তারা ব্যর্থ হয়েছেন।
বাংলাদেশ দলে অভিজ্ঞদের বিশেষ গুরুত্ম দেওয়া হয়। তবে সে অভিজ্ঞতা এবারের আসরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কাজে লাগেনি। যে মুশফিকুর রহিমের কাজ ব্যাটিং বিপর্যয়ে হাল ধরার,সেই মুশফিকই দুই ম্যাচেই দলকে উল্টো বিপর্যয়ে ফেলেছেন। প্রথম ম্যাচে ০ রানে আউট হওয়ার পর,দ্বিতীয় ম্যাচে মুশফিক করেছেন মাত্র ২ রান। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও অভিজ্ঞতার পরিচয় দিতে পারেননি। এক ম্যাচ খেলে করেছেন মাত্র ৪ রান।
বারবারই আফগানিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা আসে। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথমবারের মত খেলতে আসা আফগানিস্তান ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্বপ্ন দেখছে সেমিফাইনালে খেলার। আর বাংলাদেশ ফিরবে টানা দুই ম্যাচ হেরে আসর থেকে সবার আগে ছিটকে যাওয়ার হতাশা নিয়ে।