সহিংসতা রোধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ব্র্যাক’র যৌথ উদ্যোগে ‘শিখা প্রকল্প’

  • স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
  • |
  • Font increase
  • Font Decrease

সহিংসতা রোধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ব্র্যাক’র যৌথ উদ্যোগে ‘শিখা প্রকল্প’

সহিংসতা রোধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ব্র্যাক’র যৌথ উদ্যোগে ‘শিখা প্রকল্প’

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় কর্মরত ৮০ শতাংশ নারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৭৪ শতাংশ ছাত্রী, গণপরিবহনে ৯৪ শতাংশ নারী এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ৬৮ শতাংশ নারী কোনো না কোনোভাবে সহিংসতা বা হয়রানির শিকার হয়েছেন। এই সমস্যা মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ব্র্যাক যৌথভাবে হাতে নিয়েছে ‘শিখা প্রকল্প’।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার রেনেসাঁ হোটেলে আয়োজিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পটি যাত্রা শুরু করেছে। এ উদ্যোগটি জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, হয়রানি এবং যৌন হয়রানির প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়া জোরদার করে ব্যক্তিগত ও জনপরিসরে নারীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করবে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত সচিব) ওমর মোঃ ইমরুল মহসিন, তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ পরিচালনায় সহায়ক কমিটির সদস্য এবং শাশা গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস মাহমুদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহসভাপতি অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু এবং ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্।

ইইউ হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার বলেন, একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবার সমান অধিকার থাকবে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতাকে শুধুমাত্র নারীর সমস্যা হিসেবে দেখে না, বরং এটি মানবাধিকার, উন্নয়ন ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

আসিফ সালেহ্ বাংলাদেশে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, নীতিনির্ধারক, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষকে এই লক্ষ্যে একযোগে কাজ করতে হবে। এ বিষয়ে নেতৃত্বের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, সত্যিকারের পরিবর্তন তখনই আসে যখন শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা ব্যক্তিগতভাবে নারী-পুরুষের সমতার গুরুত্ব উপলব্ধি করেন।

ওমর মোঃ ইমরুল মহসিন বলেন, এই প্রকল্পটি জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, হয়রানি ও যৌন নিপীড়নমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে এবং কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) এই উদ্যোগকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে।

শামস মাহমুদ পোশাক শিল্পের পক্ষ থেকে অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে টেকসই ও দায়িত্বশীল পোশাক খাত গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন; যেটি হবে পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নারীদের উন্নয়নে সহায়ক। তিনি বলেন, শিখা প্রকল্প এই যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু নারীদের জন্য নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সমন্বিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, অর্থবহ পরিবর্তন আনতে সময়ের প্রয়োজন। তিনি জনপরিসরে হয়রানি ও সহিংসতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ব্র্যাকের সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স অ্যান্ড সেফগার্ডিং কর্মসূচির পরিচালক জেনেফা জব্বার শিখা প্রকল্পের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন। এ সময় তিনি বলেন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সামাজিক সচেতনতা ও জনসাধরণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি, যা আমাদের আচরণগত পরিবর্তনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।