চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত, যুবদল নেতা বহিষ্কার

  • ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, নরসিংদী
  • |
  • Font increase
  • Font Decrease

যুবদলের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান

যুবদলের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান

নরসিংদীতে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নরসিংদী শহর যুবদলের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী সুমনকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় চাঁদাবাজি, শ্লীলতাহানি ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে শহর যুবদলের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী সুমনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মোটা অঙ্কের চাঁদা না দেওয়ায় শারীরিক নির্যাতিনের শিকার হন রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর প্রেক্ষিতে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে দায়িত্বরত সকল কর্মকর্তা কর্মচারীরা স্বাক্ষর করে যুবদল নেতার বিচার চেয়েছেন সংশ্লিষ্টদের কাছে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় গতকাল বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবু তাহের মোহাম্মদ মুসা নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।অভিযুক্ত যুবদল নেতা মাহমুদুল হাসান চৌধুরী সুমন নরসিংদী শহর যুবদলের আহ্বায়ক।

লিখিত অভিযোগটি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী। লিখিত অভিযোগে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মুসা উল্লেখ করেন, স্থানীয় যুবদল নেতা মাহমুদুল হাসান চৌধুরী (সুমন) ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করে। তারা স্টেশনের ভিআইপি কক্ষে নিয়মিত মাদক ও জুয়ার আসর বসায় এবং যাত্রীদের সাথেও অসদাচরণ করে।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে মাহমুদুল হাসান চৌধুরীর সুমনের নেতৃত্বে কয়েকজন লোক স্টেশনের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে স্টেশন মাস্টারসহ কর্মচারীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এসময় তারা বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে উপস্থিত ছিল বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্টেশন মাস্টার মুসা আরও বলেন, সুমন ও তার লোকজনের অত্যাচারে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। তারা শুধু আমাদের নয়, যাত্রীদেরও হয়রানি করে থাকে। সুমন একজন সিনিয়র স্টাফকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সুমন রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যতটা লাঞ্ছিত ও হয়রানি করেছে, আওয়ামী লীগের আমলেও আমরা এতোটা হয়রানির শিকার হয়নি বলেও জানায়।

অভিযুক্ত নরসিংদী শহর যুবদলের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী সুমন জানায়, যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি আমার বড় ভাইয়ের বন্ধু। তার কাছে আমার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। কিন্তু লিখিত অভিযোগে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা মিথ্যে। আমি নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য করে থাকি। কিন্তু চাঁদাবাজি বা নির্যাতনের ঘটনা কোনোক্রমেই সত্য নয়।