বরিশালে পোর্ট রোডের বেহাল দশা, উদাসীন কর্তৃপক্ষ
-
-
|

বরিশালে পোর্ট রোডের বেহাল দশা
বরিশালের সবচেয়ে ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা পোর্ট রোডের করুণ দশা যেন কারও নজরে আসছে না। নগরীর ফলপট্টি মোড় থেকে ছোট লঞ্চঘাট পর্যন্ত ৮০০ মিটার সড়ক দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সংস্কারের অপেক্ষায় থাকলেও নৌ বন্দর কর্তৃপক্ষের বাধার কারণে কাজ হচ্ছে না।
পোর্ট রোডের এই অংশের দায়িত্ব নৌ বন্দর কর্তৃপক্ষের হলেও তারা নতুন জেটি ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যস্ত, কিন্তু সড়কটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। সিটি করপোরেশন বহুবার সড়কটি সংস্কার করতে চাইলে নৌ বন্দর কর্তৃপক্ষের বাধার সম্মুখীন হয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী আব্দুল মোতালেব বলেন, আমরা একাধিকবার নৌ বন্দর কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়েছি, কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং ঐতিহ্যবাহী পাইকারি কাঁচা বাজারের একটি বড় অংশ নিজেদের জায়গা দাবি করে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। এখন সেখানে নতুন জেটি ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের কাজ করছে, যা ছোট নৌযান চলাচলে সমস্যা তৈরি করবে।
নৌ বন্দর কর্তৃপক্ষ যদিও বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে সড়ক সংস্কার করা হবে, কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছুই হয়নি। নৌ বন্দরের সাবেক উপপরিচালক আব্দুর রাজ্জাক এর আগেও বলেছিলেন, সড়কটির টেন্ডার হয়ে গেছে, নৌ প্রকৌশল বিভাগ এটি নিয়ে কাজ করছে।

কিন্তু বর্তমান উপপরিচালক শেখ মোহাম্মদ সেলিম রেজা জানান, চরকাউয়া খেয়াঘাট থেকে স্টিমারঘাট পর্যন্ত ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, যার অধীনে নতুন জেটি তৈরি হবে। সেই কাজের সঙ্গেই পোর্ট রোডের সড়ক সংস্কারের কাজ ধরা হয়েছে। তবে বিস্তারিত জানতে নৌ প্রকৌশল বিভাগই ভালো বলতে পারবে।
তবে নৌ প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল হুসাইন জানিয়েছেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কাজ হচ্ছে, তারা এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবে।
বরিশালের পাইকারি কাঁচা বাজার দেশের অন্যতম বৃহৎ বাজার, যেখানে প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে শুরু করে ভোর পর্যন্ত পণ্য ওঠানামা হয়। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, জেটি নির্মাণের কারণে তাদের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
পাইকারি বাজার সমিতির একজন মামুন হাওলাদার নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, আগে ঘাটে মালামাল তুলতে ২০ টাকা খরচ হতো, এখন ৫০ টাকা খরচ হচ্ছে। কারণ নৌকা এখন আর ঘাটে ভিড়তে পারে না। দূরে খেয়াঘাটের একাংশে নৌকা ভেড়াতে হচ্ছে, ফলে মাথায় করে মালামাল আনা-নেওয়া করতে কুলিদের মজুরি ও পরিশ্রম বেড়ে গেছে। এর প্রভাব সরাসরি কাঁচাবাজারের পণ্যের দামে পড়ছে, যা ভোক্তাদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বরিশালের নদী গবেষক ও সুজন বরিশালের প্রতিনিধি রফিকুল আলম বলেন, নদীর জলসীমা বা ফোরসোর ব্যবহার করে ভবন বা জেটি নির্মাণের অধিকার জেলা প্রশাসনেরও নেই। এজন্য অবশ্যই নদী কমিশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সেই অনুমতি আছে কিনা, তা জানা জরুরি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত করা হবে।
এই প্রকল্পের আওতায় কী ধরনের হচ্ছে এবং তা যথাযথ অনুমোদন নিয়ে ককাজরা হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তবে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি টানা দুই দিন চরকাউয়া খেয়াঘাট এলাকায় ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, স্থানীয়রা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি সড়ক সংস্কার করা হলেও প্রশাসনিক জটিলতায় তা আলোর মুখ দেখছে না। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কখন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।