লালমনিরহাটে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামলকে রাজধানী ঢাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে লালমনিরহাট সদর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ডিবি) স্বাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
শ্যামলের নামে কি কি মামলা রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকার একটি স্থান থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে কোন কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা তাকে হাতে পাওয়ার পর প্রেস ব্রিফিং করে আপনাদের জানানো হবে।
রাজধানীর আলোচিত ভইরা দে কিশোর গ্যাং গ্রুপের অন্যতম প্রধান সদস্য জীবন সরদার ওরফে কাল্লু জীবনকে (১৬) গ্রেফতার করেছে র্যাব।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে পল্লবী থেকে র্যাব-৪ এর একটি দল তাকে গ্রেফতার করে বলে জানিয়েছেন ব্যাটালিয়নটির সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. সাইদুর রহমান শেখ।
তিনি জানান, রাজধানীর পল্লবী থানাধীন এলাকায় বেশ কিছু কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে যার মধ্যে কিশোর গ্যাং ভইরা দে গ্রুপ এর ২০-২৫ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। ভইরা দে গ্রুপ আওয়ামীলীগের ঢাকা-১৬ আসনের পলাতক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম করত বলে জানা যায়।
সাইদুর রহমান বলেন, ভইরা দে গ্যাংয়ের সদস্যরা পল্লবী থানাধীন কালশীসহ আশেপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মারামারি, মাদক সেবন ও ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। চিহ্নিত এসব বেপরোয়া ও মাদকসেবী কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের অত্যাচারে স্থানীয় লোকজন অতিষ্ঠ ও অসহায় হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদ মাধ্যমে কিশোর গ্যাং ভইরা দে গ্রুপ এর ওপর বেশ কিছু সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে এই গ্রুপের কাল্লু জীবনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের পাড়াগাও গ্রামে ভ্যান চাপায় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ভ্যান চালকমারুফ সেচ্ছায় থানায় আত্মসমর্পণ করেছে।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনিসেচ্ছায় থানায় সমর্পণ করে।
ভ্যান চালক মারুফ বাড়ৈগাও গ্রামের প্রবাসী শহিদুল ইসলামের পুত্র। সে শ্রীনগরে স্টারশিপ কোম্পানীর ডিলারের পন্য পরিবহনের চাকুরি করেন।
বুধবার সন্ধ্যায় চালক মারুফ কান্না জড়িত কণ্ঠে জানায়, শিশুটি দৌড় দিয়ে এসে ভ্যানের নিচে পরে যায়। ভ্যানটি দ্রুত থামিয়েও তাকে বাঁচাতে পারলাম না। আমার ভ্যানের নিচে একটা প্রাণ শেষ হয়ে গেল, তা কোন ভাবেই মানতে পারছি না। এই অনুশোচনা থেকেই আমি সেচ্ছায় থানায় এসেছি।
শ্রীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান,ভ্যান চালক সেচ্ছায় থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছে। এই ঘটনায় এখনো কোন মামলা হয়নি।
উল্লেখ্য, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার বেজগাও-তন্তর সড়কের পাড়াগাও গ্রামে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি )সদস্যদের ওপর হামলা করে মাদক মামলার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ৬ জনকে সদর থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭) ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মফিজুল ইসলাম।
ডিবির ওপর হামলার ঘটনায় আহত হয়েছিল জেলা গোয়েন্দা শাখার(ডিবি’র) উপ-পরিদর্শক(এসআই) ওয়াহিদুল হাসান। বুধবার দুপুরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের কাজীবাধা এলাকা হামলাকারীদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারতরা হল- রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের কাজীবাধা গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে মো. আবুল কালাম আজাদ শেখ ওরফে পিনু মেম্বার (৫০) ও তার স্ত্রী মোছা. শেফালী বেগম (৪৩), মো. মিন্টু শেখ(৫৫), মো. ইদ্রিস শেখের স্ত্রী মোছা. নাসিমা বেগম (৩৫), রফিক শেখের স্ত্রী মোছা. শিমু বেগম (২০) ও মৃত আবুল হোসেনের স্ত্রী সোহাগী বেগম (২৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৮টার দিকে মাদক ক্রয় বিক্রি হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজবাড়ী ডিবি’র এসআই মফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল কাজীবাধা এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ফরিদ শেখের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৩১০পিস ইয়াবা ও ৪ বোতল ফেনসিডিলসহ ফরিদ শেখ (৪১) কে হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
ফরিদ শেখের হাতে হাতকড়া লাগিয়ে তাকে গাড়িতে তোলার সময় তার পরিবারের সদস্যরা ডিরির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা ডিবি’র এসআই ওয়াহিদুল হাসানকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।
জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুল ইসলাম বলেন, ফরিদকে মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেফতারের পর তার পরিবারের নারী ও পুরুষ সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের এসআই ওয়াহিদুল হাসান আহত হয়। তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) শরীফ আল রাজিব এ বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে হামরার বিষয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেন, ফরিদ শেখ একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে রাজবাড়ী ও বিভিন্ন থানায় ডাকাতিসহ ৯টি মাদক মামলা রয়েছে। বুধবার তার বাড়ি থেকে ৩১০ পিস ইয়াবা ও চার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তার বাড়ির সদস্যরা ডিবি পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। পুলিশের সরকারী কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে ফরিদ শেখের পরিবারের ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক ফরিদ ও তার স্ত্রীকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভোরে রাজধানীর চারটি থানা পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোরের দিকে দায়িত্বে শিথিলতা দেখায়। এ সুযোগে সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা নানারকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করার চেষ্টা করে। আমি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি, তারা যেন এসময়েও সজাগ ও সতর্ক থাকে।
গুলশান থানায় দায়িত্বে অবহেলা করায় একজন এসআই ও একজন কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে,’বলেও জানান উপদেষ্টা।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রাজধানীর চারটি থানা (মিরপুর, দারুসসালাম, আদাবর, মোহাম্মদপুর) পরিদর্শন করেন তিনি। এসময় তিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাহিনীর সদস্যের সবসময় সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারে ও নির্ভয়ে চলাফেরা করতে হবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং করার জন্য বাহিনীর পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের অফিসারদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ফোর্স ও টহলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, যারা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে, তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক ও সজাগ রয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্থাপিত চেকপোস্টগুলোও ফাংশন করছে। যৌথবাহিনীর অপারেশনও ভালোভাবে চলছে। থানার কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলছে। থানাগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা দেখতেই এ পরিদর্শন।
চলমান যৌথ অভিযান আর কতদিন চলবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলে যৌথ অভিযান বন্ধ করা হবে। তবে অন্যান্য অভিযান চলমান থাকবে। বুধবার গুলশান থানায় দায়িত্বে অবহেলা করায় একজন এসআই ও একজন কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
উপদেষ্টা তার বারিধারার ডিওএইচএসের বাসা থেকে বের হয়ে ইসিবি চত্বর, কালশী, পল্লবী, মিরপুর-১০ হয়ে মিরপুর থানায় পৌঁছান। পরিদর্শন শেষে সেখান থেকে মিরপুর-১ হয়ে দারুসসালাম থানায় যান। দারুসসালাম থানা থেকে টেকনিক্যাল মোড়, শ্যামলী হয়ে আদাবর থানা পরিদর্শন করেন। পরে সেখান থেকে মোহাম্মদপুর থানায় যান। মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শন শেষে ধানমন্ডি ২৭, সংসদ ভবন, বিজয় সরণি, মহাখালী ও বনানী হয়ে বারিধারার বাসায় ফিরে আসেন।
তিনি ডিউটি অফিসারসহ কর্তব্যরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেন। এসময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন। পথে তিনি জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার চেকপোস্ট ও কালশী মোড় চেকপোস্ট পরিদর্শন করেন এবং দায়িত্বরতদের সঙ্গে কথা বলেন।
তাছাড়া উপদেষ্টা মিরপুর থানা মোড় ও টেকনিক্যাল মোড়ে উপস্থিত সাধারণ জনগণের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজ-খবর নেন ও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। উপস্থিত জনতা বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেন।