রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি )সদস্যদের ওপর হামলা করে মাদক মামলার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ৬ জনকে সদর থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭) ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মফিজুল ইসলাম।
ডিবির ওপর হামলার ঘটনায় আহত হয়েছিল জেলা গোয়েন্দা শাখার(ডিবি’র) উপ-পরিদর্শক(এসআই) ওয়াহিদুল হাসান। বুধবার দুপুরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের কাজীবাধা এলাকা হামলাকারীদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারতরা হল- রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের কাজীবাধা গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে মো. আবুল কালাম আজাদ শেখ ওরফে পিনু মেম্বার (৫০) ও তার স্ত্রী মোছা. শেফালী বেগম (৪৩), মো. মিন্টু শেখ(৫৫), মো. ইদ্রিস শেখের স্ত্রী মোছা. নাসিমা বেগম (৩৫), রফিক শেখের স্ত্রী মোছা. শিমু বেগম (২০) ও মৃত আবুল হোসেনের স্ত্রী সোহাগী বেগম (২৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৮টার দিকে মাদক ক্রয় বিক্রি হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজবাড়ী ডিবি’র এসআই মফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল কাজীবাধা এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ফরিদ শেখের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৩১০পিস ইয়াবা ও ৪ বোতল ফেনসিডিলসহ ফরিদ শেখ (৪১) কে হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
ফরিদ শেখের হাতে হাতকড়া লাগিয়ে তাকে গাড়িতে তোলার সময় তার পরিবারের সদস্যরা ডিরির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা ডিবি’র এসআই ওয়াহিদুল হাসানকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।
জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুল ইসলাম বলেন, ফরিদকে মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেফতারের পর তার পরিবারের নারী ও পুরুষ সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের এসআই ওয়াহিদুল হাসান আহত হয়। তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) শরীফ আল রাজিব এ বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে হামরার বিষয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেন, ফরিদ শেখ একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে রাজবাড়ী ও বিভিন্ন থানায় ডাকাতিসহ ৯টি মাদক মামলা রয়েছে। বুধবার তার বাড়ি থেকে ৩১০ পিস ইয়াবা ও চার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তার বাড়ির সদস্যরা ডিবি পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। পুলিশের সরকারী কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে ফরিদ শেখের পরিবারের ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক ফরিদ ও তার স্ত্রীকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভোরে রাজধানীর চারটি থানা পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোরের দিকে দায়িত্বে শিথিলতা দেখায়। এ সুযোগে সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা নানারকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করার চেষ্টা করে। আমি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি, তারা যেন এসময়েও সজাগ ও সতর্ক থাকে।
গুলশান থানায় দায়িত্বে অবহেলা করায় একজন এসআই ও একজন কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে,’বলেও জানান উপদেষ্টা।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রাজধানীর চারটি থানা (মিরপুর, দারুসসালাম, আদাবর, মোহাম্মদপুর) পরিদর্শন করেন তিনি। এসময় তিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাহিনীর সদস্যের সবসময় সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারে ও নির্ভয়ে চলাফেরা করতে হবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং করার জন্য বাহিনীর পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের অফিসারদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ফোর্স ও টহলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, যারা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে, তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক ও সজাগ রয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্থাপিত চেকপোস্টগুলোও ফাংশন করছে। যৌথবাহিনীর অপারেশনও ভালোভাবে চলছে। থানার কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলছে। থানাগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা দেখতেই এ পরিদর্শন।
চলমান যৌথ অভিযান আর কতদিন চলবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলে যৌথ অভিযান বন্ধ করা হবে। তবে অন্যান্য অভিযান চলমান থাকবে। বুধবার গুলশান থানায় দায়িত্বে অবহেলা করায় একজন এসআই ও একজন কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
উপদেষ্টা তার বারিধারার ডিওএইচএসের বাসা থেকে বের হয়ে ইসিবি চত্বর, কালশী, পল্লবী, মিরপুর-১০ হয়ে মিরপুর থানায় পৌঁছান। পরিদর্শন শেষে সেখান থেকে মিরপুর-১ হয়ে দারুসসালাম থানায় যান। দারুসসালাম থানা থেকে টেকনিক্যাল মোড়, শ্যামলী হয়ে আদাবর থানা পরিদর্শন করেন। পরে সেখান থেকে মোহাম্মদপুর থানায় যান। মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শন শেষে ধানমন্ডি ২৭, সংসদ ভবন, বিজয় সরণি, মহাখালী ও বনানী হয়ে বারিধারার বাসায় ফিরে আসেন।
তিনি ডিউটি অফিসারসহ কর্তব্যরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেন। এসময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন। পথে তিনি জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার চেকপোস্ট ও কালশী মোড় চেকপোস্ট পরিদর্শন করেন এবং দায়িত্বরতদের সঙ্গে কথা বলেন।
তাছাড়া উপদেষ্টা মিরপুর থানা মোড় ও টেকনিক্যাল মোড়ে উপস্থিত সাধারণ জনগণের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজ-খবর নেন ও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। উপস্থিত জনতা বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেত্রী শামীমা সীমাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরীর চকবাজার থানার গোলপাহাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার নাশকতা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
শামীমা সীমা চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং ‘সংগ্রাম’ নামে ছাত্রলীগের একটি নারী গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ. জ. ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবেও পরিচিত।
তথ্য অনুসারে, চবিতে তৃতীয় শ্রেণির চাকরি নিলেও ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাননি তিনি। সম্প্রতি তিনি নগরীর গোলপাহাড় এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। বুধবার অফিস থেকে বের হওয়ার সময় স্থানীয়রা তাকে অবরুদ্ধ করেন। খবর পেয়ে চকবাজার থানা পুলিশের একটি দল গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির বলেন, বিক্ষুব্ধ কিছু লোকজন চবি ছাত্রলীগের এক নেত্রীকে অবরুদ্ধ করলে পুলিশ গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (একিউআই) স্কোরে দূষিত বাতাসের শহরে সারা বিশ্বের মধ্যে ঢাকা আজ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী ঢাকার বাতাসের একিউআই স্কোর ছিল ১৯২। তাই ঢাকার বাতাস আজ অস্বাস্থ্যকর।
একই সময়ে নেপালের কাঠমান্ডু ১৯৪ একিউআই স্কোর নিয়ে প্রথম এবং ভারতের দিল্লি ১৯১ একিউআই স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থান দখল করেছে।
যখন কণাদূষণের একিউআই মান ৫০ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকে, তখন বায়ুর গুণমানকে ‘মাঝারি’ বলে বিবেচনা করা হয়। একিউআই সূচক ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় সাধারণত সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘসময় ধরে বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
একিউআই মান ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়। এ ছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
বাংলাদেশে একিউআই সূচক পাঁচটি দূষণের ওপর নির্ভরশীল। সেগুলো হলো- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন।