ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে এক বাংলাদেশি যুবককে শারীরিক নির্যাতনের পর মৃত ভেবে ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বাঘাডাঙ্গা সীমান্তে টহল চলাকালীন দেখতে পেয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করে মহেশপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা।
বিএসএফের নির্যাতনের শিকার বিল্লাল সানা (৪০) খুলনা পাইগাছার খড়িয়া টেমশাখালী গ্রামের আব্দুল মাজেদ সানার ছেলে।
বৃহস্পতিবার রাতে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষির হাতে ওই যুবকের নির্যাতনের খবরটি নিশ্চিত করেছেন মহেশপুর ৫৮-বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল রফিকুল আলম।
নির্যাতনের শিকার যুবকের স্ত্রী জহুরা খাতুন জানান, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ভারতের কলকাতার মধ্যম গ্রামে লেবারের কাজ করতেন বিল্লাল সানা। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্যে ৭-৮ জন একসাথে বের হন। পরে রাতে বিএসএফ তাদের দেখতে পেয়ে ধাওয়া করলে বাকিরা পালিয়ে গেলেও বিল্লাল ধরা পড়েন। বিএসএফ সদস্যদের অমানুষিক নির্যাতনে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে বিল্লাল। মৃত ভেবে তাকে বাংলাদেশ সীমান্তে ফেলে যান বিএসএফ সদস্যরা। পরে মোবাইলে খবর পেলে বিকেলে মহেশপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছান তার স্বজনরা।
সীমান্তের নস্তি গ্রামের ইয়ার আলী জানান, তার মামাতো ভাই বিল্লাল বাঘাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার সময় বিএসএফ জওয়ানরা তাকে আটক করে অকথ্য নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের পর তাকে মৃত ভেবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ফেলে রেখে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে বাঘাডাঙ্গা বিজিবির টহল দল বাংলাদেশ সীমানার মধ্যে বিল্লালকে পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ওই যুবকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মহেশপুর ৫৮-বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, নির্যাতনের শিকার বিল্লাল জানিয়েছে কাজের সন্ধানে সে ভারতে গিয়েছিল। আসার সময় বিএসএফ তাকে ধরে নির্যাতন করে বাংলাদেশের মধ্যে ফেলে রেখে যায়।
তিনি বলেন, সীমান্ত টহলের সময় গুরুতর আহত অবস্থায় বিল্লালকে পাওয়া যায়। এসময় তাকে উদ্ধার করে মহেশপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
উল্লেখ্য, বুধবার মহেশপুর সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফ সৌহার্দ্যপুর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকার করার তিন ঘণ্টা পরই বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নির্যাতনের ঘটনা ঘটলো।