বাদ্যের তালে হাঁড়ি থেকে বেরিয়ে আসে সাপ
-
-
|

ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।
বাদ্যের তালে তালে হাঁড়ি থেকে বেরিয়ে আসে বিষধর গোখরা সাপ। আর সাপুড়ে সেই সাপের সর্বোচ্চ ফনা তোলাতে দেখাচ্ছেন নানা অঙ্গভঙ্গি। সেই সঙ্গে পরিবেশন করা হচ্ছে মনসামঙ্গলের পালাগান। অন্য সাপুড়ে সাপের ফনা নামাতে দিচ্ছেন ঝাড়ফুঁক।
এমনই ঝাপান খেলার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামে।
সোমবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে গোপিনাথপুর গ্রামের যুবসমাজের উদ্যোগে ঝাপান খেলার আয়োজন করা হয়। এ কারণে দুপুর থেকেই আসতে শুরু করে শত শত নারী পুরুষ। সবার একটাই উদ্দেশ্য ঝাপান খেলা দেখা। দুপুরের পর থেকে শুরু হয় ঝাপান খেলা। সাপুড়ের ইশারায় সাপের এই অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন মানুষকে দেয় অনাবিল আনন্দ। বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, শিশুরা উপস্থিত থেকে নিবিড় দৃষ্টিতে উপভোগ করেন এই খেলা। আর খেলাকে ঘিরে এখানে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ।
ঝিনাইদহ সদর ও শৈলকুপা উপজেলা থেকে আসা ৬ সাপুড়ে দলের অর্ধশতাধিক সাপ নিজেকে সেরা প্রমাণ করতে প্রদর্শন করে আকর্ষণীয় কসরত। আর এই দুর্লভ দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন দর্শনার্থীরা।
গোপিনাথপুর গ্রাম থেকে আসা সরকারি কেসি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল মিম বলেন, ‘আমি ঝাপান খেলার কথা শুনেছি। কিন্তু কোনো দিন দেখিনি। আজ দেখতে পেরে বুঝলাম বাংলার ঐতিহ্য কত অপরূপ।’
ঝিনাইদহ শহরের আদর্শপাড়ার আকরাম হোসেন জানান, এ ধরনের আয়োজন যদি বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে করা হতো, তাহলে বর্তমান প্রজন্ম বাংলার আদি রূপ সম্পর্কে ধারণা পেত।
এ ব্যাপারে ঝাপান খেলার আয়োজক মিল্টন হোসেন জানান, চিরায়ত বাংলার ঐহিত্যবাহী এ খেলা ধরে রাখতেই আজকের এই আয়োজন করা। প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করা হবে।