মৃতপ্রায় নবগঙ্গায় ডোঙ্গা বাইচ

  • ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঝিনাইদহ
  • |
  • Font increase
  • Font Decrease

ডোঙ্গা বাইচ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ডোঙ্গা বাইচ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ছলাৎ ছলাৎ শব্দে মৃতপ্রায় নবগঙ্গার বুক চিড়ে বয়ে চলে তাল গাছের তৈরি ডোঙ্গা নৌকা। চলে একে অপরকে পেছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। আর এতে উৎসাহ যোগায় নদীপাড়ে থাকা দর্শনার্থীরা। এমনই এক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে ঝিনাইদহ শহরের ওপর দিয়ে বয়ে চলা নবগঙ্গা নদীতে।

ধোপাঘাটা-গোবিন্দপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির আয়োজনে শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) সকালে এ ডোঙ্গা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। নদীর গোবিন্দপুর পয়েন্ট থেকে বাইচ শুরু হয়ে ২ কিলোমিটার দূরের ধোপাঘাটা পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। এতে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ২২ জন প্রতিযোগী অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

শহরের ভূটিয়ারগাতী এলাকা থেকে এ প্রতিযোগিতা দেখতে আসা রুবেল হোসেন বলেন, ‘আমাদের নবগঙ্গা নদী মৃত প্রায়। এখানে নৌকা বাইচ করা সম্ভব নয়। তাইতো এলাকার মানুষ ডোঙ্গা বাইচের আয়োজন করেছে। এ প্রতিযোগিতা খুবই উপভোগ্য। না দেখলে বোঝা যাবে না বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য কতটা সমৃদ্ধ।’

একই এলাকার জিল্লুর রহমান বলেন, ‘দখল আর দূষণে নবগঙ্গা তার যৌবন হারিয়েছে। সরকার যদি এই দখলদারদের উচ্ছেদ করে নদী খনন করে, তাহলে এ ধরনের আয়োজন আরও ভালোভাবে করা সম্ভব।’

বিজ্ঞাপন
ডোঙ্গা বাইচ

 

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া আব্দুর সাত্তার বলেন, ‘আগে এই নদীতে বাইচ প্রতিযোগিতা হতো। এখন তা অনেকটা হারিয়ে গেছে। অনেকদিন পর আবারও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে খুবই খুশি আমি।’

আয়োজক ধোপাঘাটা-গোবিন্দপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আবহমান গ্রাম বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও নিজস্বতা ধরে রাখতে আর স্বল্প আয়ের মৎস্যজীবীদের একটু আনন্দ দিতে এই আয়োজন।’

 বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার দেওয়া হয়

 

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এ প্রতিযোগিতায় সবাইকে হারিয়ে প্রথম হন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর সাত্তার। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় মোবাইল, লাইট ও ছাতা।